বরগুনার
আমতলী উপজেলার দুটি ইউনিয়ন হলদিয়া
ও আমতলী সদর ইউনিয়নের মধ্যে
দিয়ে প্রবাহিত পশ্চিমচিলা টুঙ্গার খালে সেতু না
থাকায় ১০ গ্রামের মানুষ
চিকিৎসা, শিক্ষা, বিদ্যুৎসহ আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত। সেতুর
অভাবে শ্রমের-ঘামে উৎপাদিত পণ্যের
ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত আর
জীবন ঝুঁকি নিয়ে খালের ওপর
বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে
গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয় গ্রামের
শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের।
উপজেলা
সদর থেকে ৬ কিলোমিটার
দক্ষিণে কৃষি ভাণ্ডার হিসেবে
খ্যাত দু’টি ইউনিয়ন
হলদিয়া ও আমতলী সদর।
পশ্চিম চিলা (টুঙ্গার) খালের কোল ঘেঁষে এ
দু’টি অঞ্চলের অবস্থান।
পশ্চিমচিলা, পূর্বচিলা, রামজি, ভায়লাবুনিয়া, দক্ষিণচিলা, মহিষডাঙ্গা, বিশ্বাসের গ্রাম, পূর্ব-আমতলী, তালতলী, তুজির গোজাসহ ১০টি গ্রামের ২০
হাজার মানুষ বাঁশের সাঁকো নির্ভর।
একমাত্র
কৃষিই তাদের প্রধান পেশা আর কৃষির
সঙ্গে জড়িয়ে ভাগ্য পরিবর্তন করতে গিয়ে বার
বার তারা বাধাগ্রস্থ হচ্ছেন
একটি সেতুর জন্য। সেতু না থাকার
জন্য তারা সব সুবিধা
ও সঠিক মূল্যপ্রাপ্তি থেকে
বঞ্চিত হচ্ছেন।
কৃষক
ও সাধারণ মানুষের বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা। বাঁশের সাঁকোতে চলাচলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের পোহাতে হয় দুর্ভোগ। বইপত্র
নিয়ে প্রায়ই সাঁকোর নিচে পড়ে যায়
কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
এ
অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি বাঁশের সাকোর
স্থলে একটি সেতুর। সুবিধাবঞ্চিত
পশ্চিম চিলা গ্রামের মো.লিটন মিয়া জানান,
যাতায়াতের দুর্ভোগের কারণে উপজেলা সদর থেকে এলাকার
মানুষ অনেকটা বিচ্ছিন্ন। অসুস্থ লোকজনের চিকিৎসার ক্ষেত্রে পড়তে হয় নানা
বিড়ম্বনায়। ফলে হাসপাতালে নেয়ার
পথে অনেক রোগী বিশেষ
করে গর্ভবতী মা ও শিশুর
জীবন অনেক সময় বিপন্ন
হয়ে পড়ে।
টুঙ্গা
গ্রামের কৃষক লাল মিয়া
জানান, কৃষিজাত সবজি যেমন আলু,
মরিচ, শসা, কুমড়া, বেগুন,
লাউ টমেটো, করলাসহ নানা সবজির চাষাবাদ
করেন এ অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত
কৃষকরা। প্রচুর সবজি উৎপাদন করেও
পরিবহন ও বাজারজাতকরণের জন্য
তারা সঠিক মূল্য থেকে
বঞ্চিত হচ্ছেন। কম মূল্যে উৎপাদিত
পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে পাইকারদের
কাছে। আর এতে কৃষকের
পরিশ্রমের মুনাফা লুটে নিচ্ছে পাইকাররা।
কৃষকরাই তাদের উৎপাদিত সবজি বাজারজাত করতে
পারত যদি বাঁশের সাঁকোর
পরিবর্তে একটি সেতু হত।
রামজির
নয়া মিয়া বলেন, চলাচল
করতে গিয়ে প্রায়ই প্রতিদিন
ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।
হলদিয়া
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান মিন্টু
মল্লিক বলেন, একটি সেতুর অভাবে
দু’টি ইউপি’র
১০ গ্রামের মানুষকে বাঁশের সাকো দিয়ে যাতায়াত
করতে হয়। স্কুল-কলেজগামী
শিক্ষার্থীরা প্রায়ই বইপত্র নিয়ে পানিতে পড়ে
যায়। গ্রামের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত শস্য বাজারে আনতে
পারে না সেতুর অভাবে।
একটি সেতু নির্মাণ করা
হলে ১০ গ্রামের ২০
হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে। তাই
দ্রুত এখানে একটি সেতু নির্মাণের
দাবি জানান তিনি।
আমতলী
উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল
মামুন মুঠোফোনে বলেন, সরেজমিন তদন্ত পূর্বক সেতু নির্মাণের জন্য
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।
