অতীতের রাজনৈতিক পালাবদল ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে জমে উঠছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা
ডিএনএন | ঝালকাঠি: ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঠালিয়া) আসনে
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে
মনোনয়ন
ফিরে
পেয়েছেন গোলাম
আজম
সৈকত।
নির্বাচন কমিশনে
করা
আপিলে
সাড়া
দিয়ে
মঙ্গলবার (১২
ফেব্রুয়ারি) বিকেল
৩টার
দিকে
তার
প্রার্থীতা বৈধ
ঘোষণা
করা
হয়।
এর
আগে
মনোনয়ন
বাছাইয়ের নির্ধারিত দিনে
ঝালকাঠি জেলা
রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে
প্রয়োজনীয় ১
শতাংশ
ভোটারের সমর্থনে জমা
দেওয়া
স্বাক্ষরে গড়মিল
পাওয়া
গেছে—এমন তথ্য উল্লেখ
করে
গোলাম
আজম
সৈকতের
প্রার্থীতা বাতিল
করেন।
এ
সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হয়ে
তিনি
নির্বাচন কমিশনে
আপিল
করেন।
শুনানি
শেষে
নির্বাচন কমিশন
তার
আপিল
গ্রহণ
করে
প্রার্থীতা পুনর্বহাল করেন।
প্রার্থীতা ফিরে
পাওয়ার
পর
প্রতিক্রিয়ায় গোলাম
আজম
সৈকত
শুকরিয়া জ্ঞাপন
করেন
এবং
বলেন,
“আমার
বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ষড়যন্ত্র করে
ভোটারদের স্বাক্ষর নিয়ে
মিথ্যা
অভিযোগ
তুলেছিল।” তিনি
আরও
দাবি
করেন,
রাজাপুর ও
কাঠালিয়া উপজেলার সাধারণ
মানুষ
তাকে
আন্তরিকভাবে গ্রহণ
করেছে
এবং
আসন্ন
১২
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সর্বস্তরের জনগণ
তাকে
ভোট
দিয়ে
জয়যুক্ত করবে
বলে
তিনি
আশাবাদ
ব্যক্ত
করেন।
বিএনপি মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী
ত্রয়োদশ জাতীয়
সংসদ
নির্বাচনে ১২৫
নম্বর
ঝালকাঠি-১
আসনে
বিএনপির মনোনয়ন
প্রত্যাশী ছিলেন
সাবেক
ছাত্রদল নেতা
গোলাম
আজম
সৈকত।
দলীয়
মনোনয়ন
না
পাওয়ায়
তিনি
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে
নির্বাচনে অংশ
নেওয়ার
সিদ্ধান্ত নেন।
এর
আগে
তার
পক্ষে
মনোনয়ন
ফরম
উত্তোলন করেন
তার
ভাই,
মালয়েশিয়া বিএনপির সহ-সভাপতি মো. গোলাম
কবির।
ঝালকাঠি-১ আসনের রাজনৈতিক ইতিহাস
ঝালকাঠি-১
আসন
বরাবরই
রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি
আসন
হিসেবে
পরিচিত। অতীতে
এই
আসন
থেকে
বিএনপির প্রার্থী হিসেবে
ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর
সংসদ
সদস্য
নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে তিনি
আওয়ামী
লীগে
যোগ
দিলে
আসনটির
রাজনৈতিক সমীকরণে বড়
ধরনের
পরিবর্তন আসে।
এই
রাজনৈতিক পালাবদলের পর
থেকে
আসনটিতে বিএনপি,
আওয়ামী
লীগ
ও
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে
ভোটের
হিসাব
বারবার
বদলেছে। ফলে
ঝালকাঠি-১
আসনকে
অনেকেই
‘সুইং
আসন’
হিসেবেও বিবেচনা করেন।
বর্তমান নির্বাচনী সমীকরণ
আসন্ন
ত্রয়োদশ জাতীয়
সংসদ
নির্বাচনকে সামনে
রেখে
ঝালকাঠি-১
আসনে
বিএনপির ভেতরে
কিছুটা
বিদ্রোহ ও
অনিশ্চয়তার কথা
রাজনৈতিক অঙ্গনে
আলোচিত
হচ্ছে।
এমন
প্রেক্ষাপটে গোলাম
আজম
সৈকতের
প্রার্থীতা ফিরে
পাওয়া
নির্বাচনী মাঠে
নতুন
মাত্রা
যোগ
করেছে
বলে
মনে
করছেন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
স্থানীয়ভাবে সৈকতের
ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে
মাঠে
সক্রিয়তা—সব
মিলিয়ে
এই
আসনে
ভোটের
লড়াই
যে
বেশ
তীব্র
হতে
যাচ্ছে,
তা
এখনই
স্পষ্ট
হয়ে
উঠছে।
মনোনয়ন
বৈধ
ঘোষণার
মাধ্যমে গোলাম
আজম
সৈকত
আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেন,
যা
ঝালকাঠি-১
আসনের
ভোটের
রাজনীতিকে আরও
উত্তপ্ত ও
প্রতিযোগিতামূলক করে
তুলবে
বলে
ধারণা
করা
হচ্ছে।
