জহির খান, বরিশাল >> সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী দীর্ঘ ১৮ মাস পর বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া দেশের অন্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলেছে। মেডিকেল কলেজগুলো খুলবে সোমবার। চলমান করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ অনাকাঙ্খিত বিরতির অবসান ঘটেছে। অপেক্ষার পালা শেষে প্রাণহীন শিক্ষাঙ্গনে আবার লেগেছে প্রাণের ছোঁয়া। দীর্ঘ দেড় বছর পর সারাদেশের ন্যায় বরিশাল নগরীসহ গোটা জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আবারও শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর। দীর্ঘ অনাকাঙ্খিত বিরতির পরে রোববার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় যথেষ্ট সচেতন ছিলো শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উভয়েই খুশি। তবে দীর্ঘদিন ঘরে বন্দি থাকায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক-মানসিক বিকাশ কম হয়েছে এবং তাদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্যও কম বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। অপরদিকে দীর্ঘদিন পর সন্তানরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরতে পারায় হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন অভিভাবকরা। প্রথম দিনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় খুশি তারাও। করোনা সুরক্ষায় এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান অভিভাবকরা।
রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বরিশাল জিলা স্কুল, নূরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ব্রজমোহন বিদ্যালয়, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আলেকান্দা সরকারি কলেজ ও সরকারি ব্রজমোহন কলেজ ঘুরে দেখা গেছে, প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পথে প্রথমেই সবার তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়। এরপর হ্যান্ড স্যানিটাইজার করে ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। ক্যাম্পাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়া ছিলো কর্তৃপক্ষ। অধিকাংশ ক্যাম্পাসের মধ্যে ঢুকতে দেয়া হয়নি অভিভাবকদের। স্কুলের আঙ্গিনায় পা রেখেই হাত ধুয়ে স্যানিটাইজড করে শারীরিক দূরত্ব অনুসরণ করে ক্লাস কক্ষে বসেন শিক্ষার্থীরা। একটি বেঞ্চে দুই শিক্ষার্থীকে বসিয়ে পাঠদান করা হয়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে, বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজেও। দীর্ঘদিন পর স্কুলে আসতে পেরে এবং সহপাঠী-বন্ধুদের সাথে দেখা করতে পেরে খুশি শিক্ষার্থীরা। স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করে স্কুল চালিয়ে যেতে চান তারা। আগে অনলাইনে ক্লাস হলেও এখন সরাসরি ক্লাসে পড়াশোনায় মনোযোগ আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের। সব মিলিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পদচারণায় এক আনন্দমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে বরিশাল নগরীর সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
বরিশাল নূরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রথম দিন ভালোভাবেই অতিবাহিত হয়েছে। আপাতত ৫ম ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস হবে সপ্তাহে ৬দিন এবং অন্যান্য শ্রেণীর ক্লাস সপ্তাহে ১ দিন করে হবে। কঠোর বিধি-নিষেধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ছোটাছুটি করতে পারছেন না। তবে প্রায় দেড় বছর পরে শিক্ষার্থীদের স্বশরীরে বিদ্যালয়ে উপস্থিতিতে শিক্ষাঙ্গনে যেন নতুনভাবে প্রাণ ফিরে এসেছে। একই কথা জানিয়ে বরিশাল জিলা স্কুলের সিনিয়র সহকারি শিক্ষক ফাহমিদা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ঘরে বন্দি থাকায় শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ কম হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য এবং উচ্ছাসেও ঘাটতি রয়েছে বলে প্রথম দিন মনে হয়েছে তার কাছে। যদিও পড়াশোনায় শিক্ষার্থীদের যথেষ্ট আগ্রহ আছে বলে তিনি জানান।
এদিকে নগরীর শিক্ষঙ্গনগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে সকালে বরিশাল নগরীর বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ সাইফুল হাসান বাদল ও জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। প্রথমে সকাল ১১টায় সরকারি জিলা স্কুলে পরিদর্শন করে তারা অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। পাশাপাশি শ্রেণি কক্ষ পরিদর্শন করেন। পরে সেখান থেকে কালুশাহ সড়ক আলেকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বরিশাল কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ, হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সিস্টার ডে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ জালাল উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ সোহেল মারুফ, জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবদুল লতিফ মজুমদারসহ আরও অনেকে। অন্যদিকে স্কুল খোলার ঘোষণা এলেও বরিশালের বেশ কিছু স্কুলের কর্তৃপক্ষ সংস্কার কাজে ব্যস্ত থাকায় রোববার এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম হয়নি। কারণ ওইসব শিক্ষাঙ্গনের ভবন মেরামত-নির্মাণ শেষ হয়নি। ফলে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজারও শিক্ষার্থীদের মাঝে উচ্ছ্বাস ও আনন্দের বদলে নিরানন্দ ভর করেছে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাকরা পাঠদান দিয়েছেন মুরগীর ফার্ম ব্যবহার করে। আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ খোলা আকাশের নিচে তাবু টানিয়ে অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ তৈরি করে ক্লাস করিয়েছেন।
The post বরিশালের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধভাঙা উচ্ছ্বাস first appeared on Barishal Times | বরিশালটাইমস.
from বরিশালের খবর | Barishal Times | বরিশালটাইমস https://ift.tt/3Ee4RpQ
