ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে ফেসবুকে ভাইরাল করার অপচেষ্টা: ঝালকাঠিতে যুবলীগ নেতা ফিরোজ খান টুকুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ
জেলা শহরের পুরাতন কলেজ খেয়াঘাট এলাকার বনিক বাড়িতে জমি-জমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে ধর্ম অবমাননার নাটক সাজিয়ে সামাজিক মাধ্যমে উত্তেজনা ছড়ানোর অপচেষ্টার অভিযোগে যুবলীগের ওই নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার সকালে এ ঘটনাটি ঘটেছে
বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে
জানা যায়, পিঠার দোকানি সুমন বনিক পিঠা বিক্রির প্রয়োজনে কিছু কাগজ কিনে বাসায় নিয়ে যান। কাগজগুলোর মধ্যে কয়েকটিতে আরবি লেখা দেখতে পেয়ে তিনি সেগুলো আলাদা করে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। কিন্তু প্রতিবেশি ফিরোজ খান টুকুর সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর ধরে
চলে আসা জমি নিয়ে মামলা ও শত্রুতার জেরে,
বিষয়টিকে ধর্মীয় অবমাননার ঘটনা হিসেবে তুলে ধরে একটি ভিডিও ধারণ করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে
দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ
ওঠে।
ঘটনার বিষয়টি টের পেয়ে সংখ্যালঘু পরিবারটি তাৎক্ষণিকভাবে ঝালকাঠি সদর থানায় অবহিত করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিও প্রচারের চেষ্টার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানায় পুলিশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার
বিকেলে ফিরোজ খান টুকুকে আটক করা হয়।
ঝালকাঠি পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান এ বিষয়ে বলেন,
“জমি নিয়ে বিরোধের সুযোগ নিয়ে একজন ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয় ও বিপদে ফেলতে
মিথ্যা তথ্য প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছিল। পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে আইন
অনুযায়ী গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে।”
পুলিশ সুপার আরও জানান, নাগরিকদের সচেতন করতে তিনি বুধবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন এবং সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এদিকে পুলিশের সময়োপযোগী সহযোগিতায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী সংখ্যালঘু পরিবারটি। তারা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এলাকায়
বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত ফিরোজ খান টুকু পুরাতন কলেজ খেয়াঘাট এলাকার প্রয়াত হানিফ খানের ছেলে এবং তিনি ঝালকাঠি সদর উপজেলা যুবলীগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক
বলে স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মিথ্যা ও উসকানিমূলক তথ্য
প্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
