সুগন্ধার তীরটা ছিল নদীর, অথচ সেখানে জায়গা করে নিয়েছিল অবৈধ দোকান। ঘাটে আসা মানুষের হাঁটার জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছিল, অপেক্ষার জন্যও ছিল না স্বস্তির একটু জায়গা। দীর্ঘদিনের সেই ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে এবার নদীর তীর দখলমুক্ত করল নলছিটি পৌর কর্তৃপক্ষ।
নলছিটি লঞ্চঘাট ও খেয়াঘাট সংলগ্ন সুগন্ধা নদীর তীর দখল করে নির্মাণ করা চারটি অবৈধ দোকানঘর বুধবার সকালে উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নলছিটি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনের পর দিন দখলের কারণে নদীর তীরের সৌন্দর্য হারানোর পাশাপাশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে লঞ্চ ও খেয়ায় ওঠানামা করা যাত্রীদের গাদাগাদি করে চলাচল করতে হয়েছে।
দোকানঘরগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর নদীর তীরে আবারও দেখা মিলেছে খোলা জায়গার।
স্থানীয়দের চোখে-মুখে এখন স্বস্তি—নদীর পাড় যেন অবশেষে নদীর কাছেই ফিরে এসেছে।
পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দখলমুক্ত জায়গায় নির্মাণ করা হবে যাত্রী ছাউনি। সেখানে লঞ্চ ও খেয়াঘাটের যাত্রীরা নিরাপদে বসে অপেক্ষা করতে পারবেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ বলেন, নদীর তীর কিংবা সরকারি জায়গা দখল করে কোনো স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু উচ্ছেদ নয়—দখলমুক্ত এই তীর যেন স্থায়ীভাবে মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকে। সুগন্ধার পাড়ে আবার যেন নদীর হাওয়া বইতে পারে, আর ঘাটে আসা মানুষ একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে।
