পরের
জায়গা পরের জমিন/ ঘর বানাইয়া আমি রই/ আমি তো এই ঘরের মালিক নই—ঘরের
মালিক যে প্রকৃত অর্থে কে, তা নিয়ে এই পৃথিবীতে কম বিপত্তি ঘটেনি। বলা যায়, মানুষে
মানুষে সবচেয়ে বেশি দ্বন্দ্ব-বিবাদ হয়েছে জমি বা সম্পত্তির অধিকার নিয়ে। শিল্পী আবদুল
আলীমের কণ্ঠে এই লোকগান অনেকেই নিশ্চয়ই শুনেছেন, গানে জমিদারি আমলে কৃষকের দুঃখ-দুর্দশার
কথা আছে; জমি যেন কৃষকের মালিকানায় আসে, সেই আকুতিও এখানে আছে।
জমি
একজনের কিন্তু অর্থাভাবে তাবেদারি করছিল অন্য কেউ। দুই ইউনিয়নের দুপরিবারে জমিজমার
দ্বন্ধ অবশেষে ১১ বছর পর চেয়ারম্যানের মধ্যেস্থায় সমস্যার সমাধান করে দৃষ্টান্ত
স্থাপন করলেন ৮নং ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম মাসুম।
রোববার
বিকেলে ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদে দু’পক্ষের উপস্থিতে মানবিক চেয়ারম্যান মাসুমের
মধ্যেস্থতায় এ দ্বন্ধের অবসান হয়।
জানাযায়,
ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী শেখেরহাট
ইউনিয়নের এক হত
দরিদ্র হিন্দু পরিবার অর্থাভাবের
কারনে বাড়ীর জমি বাবত প্রতিবেশীর
কাছে স্টাম্পে লিখিতর মাধ্যমে ৫৫ হাজার টাকা
লোন নেয়। যা গত
১১ বছরে সুদাসলে তা গড়ায় লক্ষ
টাকা। লোনের বোঝা মাথায় নিয়ে পরিবারটি নিদারুন কষ্টে দিন পাড় করছিলেন। এই অসহায়ত্বের কথা শুনে দু'টি পরিবারকে
ডাকা হয় ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদে।
দুপক্ষের কথা শুনে চেয়ারম্যান
নিজ তহবিল থেকে এক
লক্ষ টাকা দিয়ে লোনগ্রস্থ
পরিবারটিকে লোনমুক্ত করেন।
তার
এই উদরতা সমাজ উন্নয়ন ও
মানব সেবায় এক নতুন দৃষ্টান্ত
বলে মনে করছে গুণীজনরা।
বিষয়টি দেখে উপস্থিত জনতা অভিভূত হন।
চেয়ারম্যানের
প্রতি খুশি ভুক্তভুগি পরিবারে জানায়, একজন মানবিক চেয়ারম্যানের প্রচেষ্টায় দির্ঘ ১১
বছরের দ্বন্ধ ভুলে দু’পরিবার এক হয়েছি। এমন চেয়ারম্যান প্রতিটি ইউনিয়নে থাকলে সাধারণ
মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে।
চেয়ারম্যান
আবুল কালাম মাসুম বলেন, আমার উদ্দেশ্য হলো আমার ইউনিয়নের
অসহায় মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা করা পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারের স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত
করাই একজন চেয়ারম্যানে দ্বায়িত্ব। আর এ ইউনিয়নের সকল নাগরিক সেবা সুনিশ্চিত করাই আমার
মূল লক্ষ্য।