অনেক প্রতিকুলতা আর নিম্নচাপ ‘জাওয়াদ’এ ভর করে অগ্রহায়নের অকাল বর্ষনের ক্ষতির পরেও বরিশাল কৃষি অঞ্চলের দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ জুরে এখন আমন কাটার ধুম চলছে।
পৌষের কুয়াশা ঘেরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফসলের মাঠে মাঠে ধান কাটার এ দৃশ্য মানুষেরই চোখ জুড়িয়ে যায়। তবে এবার বৃষ্টিতে ধানের গুনগত মান কিছুটা খারাপ হওয়ায় বরিশাল অঞ্চলে ধানের দাম নিয়ে কৃষকের মুখের হাসি মলিন হয়ে গেছে।
গত বছর ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ এবং ভাদ্রের বড় অমাবশ্যায় এ অঞ্চলের প্রায় ৭০ ভাগ আমনের জমি প্লাবিত হওয়ায় ভয়াবহ দ‚র্যোগ নেমে আসে। ফলে সাড়ে ৭ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ব বরিশাল অঞ্চলে আমনের উৎপাদন ঘাটতি ছিল লক্ষমাত্রার প্রায় দেড় লাখ টন কম। গত বছর প্রকৃতিক দূর্যোগের ক্ষতি বাদে দেশে ৫৩ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৮ হেক্টর জমিতে ১ কোটি ৪১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৪৩ টন আমন চাল উৎপাদন হয় বলে কৃষি স¤প্রসারন অধিদপ্তর-ডিএই জানিয়েছে। যারমধ্যে বরিশাল কৃষি অঞ্চলেই উৎপাদন ছিল প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ টন। তবে সাড়ে ৭ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত বরিশাল অঞ্চলে এখনো উচ্চ ফলনশীল জাতের আমন আবাদে অনেক পিছিয়ে। আমাদের ধান গবেষনা ইন্সটিটিউট-‘ব্রি’ উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের আবাদ প্রযুক্তি এ অঞ্চলের কৃষকদের কাছে হস্তান্তরে ডিএই’র মাঠ কর্মীদের তেমন কোন ভ’মিকা নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে। এঅঞ্চলে খরিপ-২ মৌসুমে যে ৮.৫৬ লাখ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে, তার মধ্যে সনাতন জাতের ধানই প্রায় সাড়ে ৩ লাখ হেক্টরে। এসব ধানের উৎপাদন হেক্টর প্রতি মাত্র ১.৮০ টনের মত। অথচ হাইব্রীড জাতের আমনের অবাদ হয়েছে মাত্র ৫শ হেক্টরের মত। সারা দেশে অতি উচ্চ ফলনশীল জাতের এ ধানের আবাদ হয় প্রায় আড়াই লাখ হেক্টরে। কিন্তু হাইব্রীড জাতের ধানের উৎপাদন দেশের অন্য এলাকার তুলনায় এ অঞ্চলে হেক্টর প্রতি প্রায় ১ টন বেশী। এমনকি উচ্চ ফলনশীল-উফশী জাতের আমন আবাদেও পিছিয়ে বরিশাল অঞ্চল।