ঝালকাঠি জেলার ৩১ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ঋণ খেলাপি, ক্রটিপূর্ণ মনোনয়নপত্র দাখিল ও আয়-ব্যয়ের হিসাবে গড়মিল থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত একজনসহ ৯ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১০ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩০ জন রয়েছেন।
রোববার (২১ মার্চ) সকালে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ওহিদুজ্জামান মুন্সি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রে অধিকাংশ প্রার্থীরা ইতিমধ্যে আপিল করেছেন বলে তিনি জানান।
সোমবার (২২ মার্চ) আপিল শুনানিতে বাতিল হওয়া প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। অপরদিকে মনোনয়নপত্রে যাচাই-বাছাইয়ে অনিয়ম ও পক্ষপাত্বিতের অভিযোগ তুলেছে অনেকেই। বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে ত্রুটি দেখিয়ে অপর প্রার্থীরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে আপত্তি তুললেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সদর উপজেলার বিনয়কাঠি, গাবখান-ধানসিঁড়ি, শেখেরহাট, নথুল্লাবাদ, নলছিটি উপজেলার কুশঙ্গল, রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া, শুক্তাগড়, কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া ও শৌলজালিয়া এসব ইউনিয়নে একজন করে প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই বাছাইয়ে ত্রুটি থাকায় বাতিল করা হয়েছে।
বাতিলদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোননীত নলছিটি উপজেলা কুশঙ্গল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন ছাড়া অন্য সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী। গত বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনের তথ্য অনুযায়ী চার উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ১২৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
প্রতিটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সমর্থিত প্রার্থী রয়েছে। তবে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে প্রতিটি ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। ইতোমধ্যে এসব ইউনিয়নে বেশ কয়েকটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ-সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়াও সাধারণ সদস্য পদে এক হাজার ৫৯ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৩২২ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। আগামী ১১ এপ্রিল ৩১ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে ৫টি ইউনিয়নে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে বলে নির্বাচন কর্মকর্তা জানান।
প্রসঙ্গ, ঝালকাঠি জেলার চারটি উপজেলার ৩১টি ইউপি নির্বাচনে ভোটার রয়েছেন চার লাখ ৩৪ হাজার চারজন। এদের মধ্যে দুই লাখ ২০ হাজার ৯৩৭ জন পুরুষ ভোটার ও দুই লাখ ১৩ হাজার ৬৭ জন মহিলা ভোটার। ভোট গ্রহণের জন্য ২৯১টি ভোট কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
