পোষ্টার ছেড়াকে কেন্দ্র করে বরিশালে যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল, শেষ পর্যন্ত তার শান্তিপূর্ণ সমাধান হলো। গত রোববার রাতে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ঘটনার সমঝোতা হয়। বরিশালের ঘটনার উত্তাপ সারাদেশে ছড়িয়ে পরার আগেই এই ঘটনার শান্তিপূর্ণ মীমাংসা অবশ্যই ইতিবাচক। কারণ, পাল্টাপাল্টি মামলায় পরিস্থিতি ক্রমশই খারাপের দিকে মোড় নিচ্ছিল। তাছাড়া এই ঘটনা সারাদেশেই জনপ্রতিনিধি এবং রাজনীতিবিদদের প্রশাসনের মুখোমুখি দাড় করিয়েছিল। আপাতত সেই সংকট থেকে সরকার নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছে। তবে বরিশালের ঘটনার সমঝোতার পর স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, কে জিতলো বরিশালে?
বরিশালের ঘটনাটি ছিলো দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন এবং মেয়রের দ্বন্দ্বের পরিণতি। কেবল একটি পোষ্টার ছেড়াকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনা ঘটেছে, এমটি নয়। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে যে, এই ঘটনায় উভয় পক্ষই বাড়াবাড়ি করেছে। বরিশাল সিটি মেয়রের কর্মীরা পোষ্টার ছেড়াকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা দেখিয়েছে সেটা যেমন অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অনভিপ্রেত ছিলো, তেমনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আনসাররাও বাড়াবাড়ি করেছে। উভয় পক্ষই চেয়েছিল এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জয়ী হতে। মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ চেয়েছিলেন এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করতে যেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রশাসন ভীত হয়ে তার অনুগত থাকে। তার কথা শোনে। অন্যদিকে প্রশাসন চেয়েছিল এই ঘটনাকে পুঁজি করে মেয়রকে চাপে ফেলতে। ঘটনার পর তাৎক্ষনিক ভাবে জয়ী হয়েছিল প্রশাসন। সারাদেশেই মেয়রের পক্ষে একটা আবহ তৈরি হয়েছিল।
সাদিক আবদুল্লাহকে নিয়ে শুরু থেকেই বিভিন্ন মহলের আপত্তি ও অস্বস্তি ছিলো। ঘটনার পর সরকারের নীতি নির্ধারক মহলের মনোভাবও ছিলো সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টে যায় একটি বিবৃতির প্রেক্ষাপটে। বাংলাদেশ এ্যাডমেনিটেটিভ এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে যে এই ঘটনা সম্পর্কে যে বিবৃতি দেয়া হয়েছিল, তা ছিলো আপত্তিকর, শিষ্টাচার বহির্ভূত এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ। এই বিবৃতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হবার পরপরই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। যারা সাদিক আবদুল্লাহর সমালোচনায় মুখর ছিলেন, তার পর্যন্ত আমলাদের ধৃষ্টতা দেখে ক্ষুব্ধ হন। রাজনীতিবিদরা একট্টা হন। এরকম পরিস্থিতিতে আমরারাও পিছু হটেন। এরফলে শেষ পর্যন্ত জয়ী হন বরিশালের মেয়রই। তবে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মেয়র না বরিশালে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছে রাজনীতিবিদরাই।
